পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল।
20 Jan 2026
পড়া মনে রাখার সহজ ও মেডিকেল-সিদ্ধ কৌশল
পড়া মনে রাখতে না পারা একটি খুবই সাধারণ সমস্যা। ছাত্রছাত্রী, মেডিকেল শিক্ষার্থী এমনকি প্রফেশনালরাও অনেক সময় পড়া ভুলে যায়। আধুনিক নিউরোসায়েন্স ও কগনিটিভ সাইকোলজি অনুযায়ী, স্মৃতিশক্তি বাড়ানো সম্ভব—যদি সঠিক কৌশলে পড়া হয়। নিচে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর কৌশল তুলে ধরা হলো।
১. বারবার পড়া (Repetition / Spaced Repetition)
একই বিষয় একদিনে বহুবার না পড়ে সময় ভাগ করে পড়লে মনে রাখা বেশি হয়।
-
আজ পড়ুন → ২ দিন পর → ৭ দিন পর
-
একে বলে Spaced Repetition
🔬 বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা:
এভাবে পড়লে হিপোক্যাম্পাসে নিউরাল কানেকশন শক্ত হয় এবং তথ্য long-term memory তে জমা হয়।
২. মনোযোগ দিয়ে পড়া (Focused Reading)
মন অন্যদিকে থাকলে মস্তিষ্ক তথ্য গ্রহণ করে না।
-
মোবাইল সাইলেন্ট
-
একসাথে একটিই বিষয় পড়ুন (Single-tasking)
🔬 কারণ:
মনোযোগ না থাকলে Prefrontal cortex ঠিকভাবে কাজ করে না, ফলে তথ্য স্মৃতিতে স্থায়ী হয় না।
৩. বুঝে বুঝে পড়া (Understanding-Based Reading)
শুধু মুখস্থ নয়—কেন, কীভাবে, কোন কারণে হচ্ছে তা বুঝে পড়তে হবে।
-
নিজেকে প্রশ্ন করুন: কেন এমন হলো?
-
আগের জানা বিষয়ের সাথে নতুন বিষয় মিলিয়ে পড়ুন
🔬 মেডিকেল ব্যাখ্যা:
বুঝে পড়লে Association cortex ও Prefrontal cortex একসাথে সক্রিয় হয়, ফলে তথ্য deep memory তে যায়।
৪. অল্প জোরে জোরে পড়া (Reading Aloud)
নিজের কানে শোনা গেলে মনে রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
🔬 Production Effect:
পড়া + বলা + শোনা—এই তিনটি sensory pathway একসাথে কাজ করে, ফলে স্মৃতি শক্ত হয়।
৫. ছোট সময় নিয়ে পড়া (Pomodoro Technique)
একটানা অনেকক্ষণ না পড়ে—
-
২৫–৩০ মিনিট পড়ুন
-
৫ মিনিট বিরতি নিন
🔬 কারণ:
একটানা পড়লে mental fatigue ও cortisol বাড়ে, যা স্মৃতির জন্য ক্ষতিকর।
৬. নিজের ভাষায় বলা বা লেখা (Active Recall)
পড়া শেষে খাতা বন্ধ করে নিজেকে প্রশ্ন করুন—
-
আমি কী পড়লাম?
-
লিখে বা বলে দেখাতে পারি কি?
🔬 কারণ:
এতে synaptic strengthening হয়—এটি স্মৃতি বৃদ্ধির সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশল।
৭. ছবি, চার্ট ও রঙ ব্যবহার (Visual Memory)
-
ডায়াগ্রাম আঁকুন
-
গুরুত্বপূর্ণ অংশ হাইলাইট করুন
🔬 কারণ:
মানুষ ভিজ্যুয়াল তথ্য বেশি মনে রাখে; এতে Occipital cortex সক্রিয় হয়।
৮. ঘুম ও স্মৃতি (Sleep & Memory)
-
পড়ার পর ৬–৮ ঘণ্টা ঘুম জরুরি
🔬 বৈজ্ঞানিক তথ্য:
ঘুমের সময় memory consolidation হয়—হিপোক্যাম্পাস থেকে কর্টেক্সে তথ্য স্থায়ীভাবে জমা হয়।
৯. স্বাস্থ্যকর খাবার ও পানি
-
পর্যাপ্ত পানি
-
ডিম, মাছ, বাদাম, শাকসবজি
🔬 কারণ:
গ্লুকোজ ও ওমেগা-৩ নিউরনের কার্যক্ষমতা বাড়ায়।
১০. নিয়মিত রিভিশন
-
সপ্তাহে অন্তত একবার রিভিশন
-
শুধু চোখ বুলানো নয়, বুঝে পড়া
উপসংহার
পড়া মনে রাখা কোনো জাদু নয়—এটি একটি নিউরোবায়োলজিকাল প্রসেস। নিয়মিত অনুশীলন, মনোযোগ, পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—এই চারটি হলো ভালো স্মৃতির মূল চাবিকাঠি।
📌 এই কৌশলগুলো মেডিকেল ও নিউরোসায়েন্স-ভিত্তিক এবং ছাত্রছাত্রী থেকে মেডিকেল প্রফেশনালদের জন্যও কার্যকর।
ডা: আমিনুর রহমান।। ব্রেইন, স্পাইন এন্ড ট্রমা স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন।। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।।