মাথা ব্যথা, ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা, পিএলআইডি সমস্যা, হেড ইনজুরি , স্পাইন ইনজুরি , স্পাইনের রড-স্ক্র ফিক্সেশন, মস্তিষ্ক - স্নায়ু - মেরুদণ্ড ব্যথা, স্পাইনাল টিউমার, ব্রেইন টিউমার, প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাত, স্ট্রোক, হাত - পায়ে ব্যথা, হাতে পায়ে ঝিমঝিম ভাব , শিশু নিউরোসার্জারি , ভাসকুলার নিউরোসার্জারি বিশেষজ্ঞ ও নিউরোসার্জন।

Dr. Aminur Rahman's

Nurosolution

ডাঃ আমিনুর রহমান'স

নিউরোসলুশন

ব্রেন টিউমার কি? - প্রকার, লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা।

09 Oct 2026

ব্রেন টিউমার কি? - প্রকার, লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা।

ব্রেন বা মস্তিষ্ক আমাদের শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ব্রেন টিউমার মানে হলো মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশেপাশের কোষগুলোর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। মস্তিষ্কের ভেতরে বা আশেপাশে যখন অস্বাভাবিকভাবে কোনো কোষ বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, তখন তাকে ব্রেন টিউমার বলা হয়। এই কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেয়ে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাঁধা সৃষ্টি করে।  টিউমারটি ছোট বা বড় হতে পারে, এবং এটি ক্যান্সারজনিত (Malignant) অথবা ক্যান্সারবিহীন (Benign) হতে পারে।

ব্রেন টিউমার মস্তিষ্কের সাধারণ কাজের ওপর প্রভাব ফেলে এবং বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেন টিউমারের প্রকারভেদঃ

  • প্রাথমিক ব্রেন টিউমারঃ যতগুলো টিউমার মস্তিষ্কে সরাসরি তৈরি হয়, সেগুলোকে প্রাথমিক ব্রেন টিউমার বলা হয়। সাধারণত, এই টিউমার মস্তিষ্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে এবং খুব কমই এর বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রাথমিক টিউমার দেখা যায়। এগুলো মস্তিষ্কের কোষের ধরণের (অ্যাস্ট্রোসাইটোমা, অলিগোডেনড্রোগ্লিওমা, বা মিশ্র অলিগোঅ্যাস্ট্রোসাইটোমা) ভিত্তিতে নামকরণ করা হয়।

  • সেকেন্ডারি বা মেটাস্ট্যাটিক ব্রেন টিউমারঃ শরীরের অন্য কোনো অঙ্গের ক্যান্সার যখন মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তাকে সেকেন্ডারি ব্রেন টিউমার বলা হয়। সাধারণত, এগুলো প্রাথমিক টিউমারের তুলনায় বেশি দেখা যায় এবং ক্যান্সারের ইতিহাস থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি হয়। মস্তিষ্কের মেটাস্টেসগুলি প্রায়শই ফুসফুস, স্তন, কিডনি, কোলন বা মেলানোমার ক্যান্সার থেকে সৃষ্টি হয়।

ব্রেন টিউমারের কারণ কী? 

ব্রেন টিউমারের সঠিক কারণ অনেক সময় নির্দিষ্টভাবে বলা বা জানা যায় না। তবে গবেষণায় কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণ (Risk Factors) রয়েছে, যা ব্রেন টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। মস্তিষ্কের কোষে অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা মিউটেশন ঘটলে, কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার ফলে ব্রেন টিউমার তৈরি হয়।

  • জেনেটিক বা পারিবারিক কারণেঃ যদিও বেশিরভাগ ব্রেন টিউমার বংশগত নয়, তবে যদি পরিবারের কোনো ঘনিষ্ঠ সদস্যের, যেমন বাবা-মা, ভাই-বোন, অথবা সন্তানের ব্রেন টিউমারের ইতিহাস থাকে, বিশেষ করে গ্লিওমাসের ক্ষেত্রে, তাহলে ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। নিউরোফাইব্রোমাটোসিস টাইপ 1 ও 2 এবং লি-ফ্রামেনি সিনড্রোমের মতো জেনেটিক সিন্ড্রোমগুলোও ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বাড়াতে সাহায্য করে। 

  • অতিরিক্ত রেডিয়েশনের কারণেঃ মাথায় অতিরিক্ত রেডিয়েশন বা রেডিওথেরাপি নেওয়ার ফলে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে শৈশবকালে আয়নাইজিং বিকিরণের সংস্পর্শে থাকা একটি পরিচিত ঝুঁকির কারণ।

  • বয়স বৃদ্ধির কারণেঃ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। যদিও শিশুদের মধ্যেও ব্রেন টিউমার হতে পারে।

  • দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণেঃ যাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, বা যাদের আগে থেকেই বেশ কিছু রোগ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেশি।

  • শরীরের অন্য ক্যান্সার থেকে ছড়িয়ে পড়ার কারণেঃ ফুসফুস, স্তন, কিডনি বা ত্বকের ক্যান্সার থেকে ক্যান্সার কোষ মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে, যা সেকেন্ডারি ব্রেন টিউমার নামে পরিচিত।

  • রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে থাকলেঃ কিছু ক্ষতিকারক রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শে থাকলে ব্রেন টিউমারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। উদাহরণস্বরূপ:

    • শিল্পকারখানার কিছু রাসায়নিক পদার্থ

    • কীটনাশক বা

    • বিষাক্ত ধাতুর সংস্পর্শ 

ব্রেন টিউমারের লক্ষণ

টিউমারের আকার, অবস্থান এবং আশেপাশের মস্তিষ্কের টিস্যুর ওপর প্রভাবের জন্য ব্রেন টিউমারের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে লক্ষণগুলো ব্যক্তিভেদে অনেক পরিবর্তনশীল।

সাধারণ লক্ষণসমূহঃ

  • ক্রমাগত মাথাব্যথা, বিশেষ করে সকালে

  • সকালে বেশি মাথাব্যথা

  • কোনো কারণ ছাড়াই বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

  • চোখে ঝাপসা দেখা

  • খিঁচুনি (Seizure)

  • শরীরের একপাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া

  • কথা বলতে সমস্যা হওয়া

  • স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া 

  • হাঁটাচলায় ভারসাম্য হারানো

  • আচরণ বা ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন

  • অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব 

শিশুদের ব্রেন টিউমারের লক্ষণও কিছুটা আলাদা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একই থাকে। যেমন:

  • মাথার আকার অস্বাভাবিক হওয়া

  • বারবার বমি হওয়া

  • খাওয়ায় অনীহা

  • খিঁচুনি হতে পারে

  • পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া

ব্রেন টিউমার আচরণগত এবং মানসিক সমস্যা তৈরি করে থাকে। কিছু ক্ষেত্রে, এসব লক্ষণ অত্যন্ত গুরুতর হয়ে যায়, তখন আপনার পরিবার বা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন হতে পারে।

ব্রেন টিউমার রোগ নির্ণয় 

ব্রেন টিউমার শনাক্ত করা বেশ জটিল প্রক্রিয়া, যা রোগীর সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা এবং চিকিৎসা ইতিহাসের মূল্যায়নের মাধ্যমে শুরু হয়। মস্তিষ্কের উৎপন্ন ক্রানিয়াল স্নায়ুগুলি অক্ষত আছে কিনা, তা দেখতে বিশেষ স্নায়বিক পরীক্ষা করা হয়।

রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষাঃ

  • মাথাব্যথা আছে কি না!

  • খিঁচুনি হচ্ছে কি না!

  • চোখে ঝাপসা দেখা,

  • শরীর দুর্বল হয়ে যাচ্ছে কি না!

  • কথা বলতে সমস্যা হচ্ছে কি না!

  • এরপর স্নায়বিক পরীক্ষা (Neurological Examination) করা হয়।

মাথার এমআরআই:

ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং যেকোনো টিউমার চিহ্নিত করার একটি প্রধান হাতিয়ার, কারণ এটি মস্তিষ্কের বিস্তারিত ক্রস-সেকশনাল চিত্র প্রদান করে। এমআরআই টিউমারের আকার এবং অবস্থান নির্ধারণে সাহায্য করে। 3T ইন্ট্রাঅপারেটিভ এমআরআই (iMRI) হল একটি উন্নত প্রযুক্তি যা মস্তিষ্কের টিউমার সার্জারিতে নিউরোসার্জারিকে সহায়তা করে। এই উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে চিকিৎসকরা নিরাপদে এবং সঠিকভাবে নিউরোসার্জারি করতে পারে।

মাথার সিটি স্ক্যান:

এই স্ক্যানগুলি এক্স-রে-র চেয়ে আরও ভালো মাথার খণ্ড ছবি দেয়। সিটি স্ক্যানে একটি বিশেষ ক্যামিক্যাল ব্যবহার করা হয়, যা রক্তনালীগুলোর স্পষ্ট ছবি দেখতে চিকিৎসকদের সহায়তা করে। অস্বাভাবিক টিস্যু হাইলাইট করার জন্য আগে থেকে এই ক্যামিক্যাল ইনজেকশন দেওয়া হয়।

বায়োপসি:

বায়োপসি পরীক্ষায় টিউমারের একটি ছোট কোষ বা টুকরো নিয়ে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। একজন নিউরোপ্যাথোলজিস্ট এই বায়োপসি পরীক্ষাটি করে থাকেন। এই পরীক্ষা টিউমার কোষগুলো ম্যালিগন্যান্ট কিনা তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং ক্যান্সারের উপস্থিতি মস্তিষ্কে বা শরীরের অন্য অংশে আছে কিনা তা নির্ধারণে সহায়তা করে।

Neurological Examination:

স্নায়ুর কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। যেমন—

  • চোখের দৃষ্টি

  • হাত-পায়ের শক্তি

  • ভারসাম্য

  • স্মৃতিশক্তি

  • কথা বলার ক্ষমতা

এনজিওগ্রাফি:

এই গবেষণায়, বিশেষ ধরনের একটি ঔষধ ব্যবহৃত হয়, যা শিরাপথে ইনজেকশন দেওয়া হয়। সাধারণত এটি কুঁচকির এলাকায় দেওয়া হয়। ঔষধ মস্তিষ্কের ধমনীতে প্রবেশ করে এবং টিউমারের রক্ত সরবরাহের উৎস দেখতে ডাক্তারকে সহায়তা করে।

কখন দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি? 

  • দীর্ঘদিন তীব্র মাথাব্যথা থাকলে

  • বারবার বমি হলে

  • খিঁচুনি দেখ দিলে

  • হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে গেলে

  • শরীর অবশ হয়ে গেলে

  • হাঁটতে ভারসাম্য হারালে

সঠিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে একজন চিকিৎসক দ্রুত তার চিকিৎসা শুরু করতে পারেন।

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসাসমূহঃ

ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা টিউমারের ধরন, আকার, অবস্থান এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। আধুনিক চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে ব্রেন টিউমার নিয়ন্ত্রণ বা অপসারণ করা সম্ভব হয়। তবে মস্তিষ্কের টিউমারের জন্য সবচেয়ে সাধারণ চিকিৎসা হলো সার্জারি।

  1. সার্জারি (Brain Tumor Surgery):

মস্তিষ্কের টিউমারের সবচেয়ে প্রচলিত এবং কার্যকর চিকিৎসা হলো সার্জারি। এর উদ্দেশ্য হলো সুস্থ মস্তিষ্কের টিস্যুকে যতটা সম্ভব সুরক্ষিত রেখে কোষ বা টিউমার সম্পূর্ণ বা আংশিক অপসারন করা।

বর্তমানে আধুনিক নিউরোসার্জারিতে উন্নত অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যার ফলে অস্ত্রোপচার আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ ও কার্যকর হয়েছে।

সার্জারির প্রধান উদ্দেশ্যঃ 

  • টিউমার অপসারণ করা

  • মস্তিষ্কের চাপ কমানো

  • মাথাব্যথা, খিঁচুনি ও অন্যান্য উপসর্গ কমানো

  • টিউমারের ধরন নির্ণয়ের জন্য টিস্যু সংগ্রহ করা

টিউমারের অবস্থান ও আকার অনুযায়ী অপারেশনের ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

  1. রেডিয়েশন থেরাপি (Radiotherapy):

এটি একটি নন-সার্জিক্যাল রেডিয়েশন থেরাপি, যা সুনির্দিষ্টভাবে কেন্দ্রীভূত রেডিয়েশন রশ্মি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট এলাকায়, যেমন একটি টিউমারে উচ্চ মাত্রার শক্তি সরবরাহ করে, যার পার্শ্ববর্তী সুস্থ টিস্যুর ওপর ন্যূনতম প্রভাব পড়ে। এটি একটি অত্যন্ত নির্ভুল কৌশল, যা মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড বা শরীরের অন্যান্য অংশের ক্ষত লক্ষ্য করার জন্য 3D ইমেজিং ব্যবহার করে।

যেখানে পুরো টিউমার অপসারণ সম্ভব নয় অথবা অপারেশনের পরে কিছু অংশ থেকে যায়, সেখানে রেডিয়েশন থেরাপি কার্যকর ভূমিকা রাখে। আধুনিক রেডিয়েশন প্রযুক্তি টিউমারের ওপর নির্ভুলভাবে কাজ করে এবং আশেপাশের সুস্থ টিস্যুর ক্ষতি কমাতে সাহায্য করে।

  1. কেমোথেরাপি (Chemotherapy):

কেমোথেরাপি ক্যান্সার কোষকে মেরে ফেলা বা বৃদ্ধি থামাতে সাহায্য করে এমন একটি ঔষধ। এগুলো মুখে খাওয়া বা শিরায় দেওয়া যেতে পারে। ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

কেমোথেরাপির ব্যবহারঃ 

  • ক্যান্সারযুক্ত ব্রেন টিউমারে

  • রেডিয়েশন থেরাপির সাথে

  • অপারেশনের পরে

  • পুনরায় টিউমার হলে

কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি টিউমারের বৃদ্ধি বন্ধ করতে এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করতে সাহায্য করে।

  1. টার্গেটেড থেরাপি (Targeted Therapy):

এটি আধুনিক চিকিৎসায় একটি পদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট ক্যান্সার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে সাধারণ কোষের ক্ষতি তুলনামূলকভাবে কম হয় এবং এটি বিশেষ ধরনের ব্রেন টিউমারে কার্যকর ফল দেয়।

  1. ইমিউনোথেরাপি (Immunotherapy):

এতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করা হয়। কিছু উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে নিয়মিত।

  1. ওষুধের মাধ্যমে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ:

ব্রেন টিউমারের কারণে অনেক সময় মাথাব্যথা, খিঁচুনি বা মস্তিষ্কে ফোলার সমস্যা দেখা দেয়। এসব নিয়ন্ত্রণে ভিন্ন ভিন্ন ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যার ফলে উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করে চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়।

ব্যবহৃত ওষুধ যেমনঃ

  • Steroid → মস্তিষ্কের ফোলা কমাতে

  • Anti-Seizure Medicine → খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে

  • Pain Medicine → ব্যথা কমাতে, এগুলো ব্যাবহার করা হয়।

  1. পুনর্বাসন চিকিৎসা (Rehabilitation):

অপারেশন বা চিকিৎসার পরে কিছু রোগীর পুনর্বাসনের প্রয়োজন হয়। যেমনঃ

  • ফিজিওথেরাপি

  • Speech Therapy

  • Occupational Therapy

  • মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং

এগুলো রোগীকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করে। যদিও সব ব্রেন টিউমার প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবুও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

উপসংহার

ব্রেন টিউমার একটি গুরুতর সমস্যা, কিন্তু বর্তমানে আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই সফলভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। সার্জারি, রেডিয়েশন থেরাপি, কেমোথেরাপি এবং অন্যান্য উন্নত চিকিৎসা রোগীর জীবনমান উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তাহলে, দীর্ঘদিন মাথাব্যথা, খিঁচুনি বা স্নায়বিক সমস্যাগুলোকে অবহেলা না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিনঃ

ডা. আমিনুর রহমান

নিউরোসার্জন | মস্তিষ্ক ও স্পাইন ট্রমা বিশেষজ্ঞ
Dhaka Medical College Hospital
এমবিবিএস (এমএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য), এমএস (নিউরোসার্জারি – ডিএমসিএইচ)

চেম্বার ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট

১. পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ – টাঙ্গাইল শাখা

ঠিকানা: টাঙ্গাইল, সাবালিয়া, ময়মনসিংহ রোড।

ফোন: 09666-787824

সময়: শুক্রবার, সকাল ৯:০০টা – বিকেল ৫:০০টা।

২. জাহানারা ক্লিনিক প্রা: লি

ঠিকানা: উত্তরা, সেক্টর ১, রোড ২, ঢাকা।

ফোন: 01732838355

ইমেইল: aminurmmc40@gmail.com

সময়: রবিবার ও বুধবার, বিকেল ৪:০০টা – সন্ধ্যা ৬:০০টা।