মাইগ্রেন কি? মাইগ্রেনের লক্ষণ গুলো কিকি? ঔষধ ছাড়াই মাইগ্রেন থেকে বাঁচার উপায়।
25 Apr 2026
মাইগ্রেন (Migraine) হলো এক ধরনের নিউরোলজিক্যাল হেডেক ডিসঅর্ডার, যেখানে মাথাব্যথা সাধারণত বারবার হয় এবং নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে। এটি শুধু “সাধারণ মাথাব্যথা” নয়—বরং মস্তিষ্কের ভাসকুলার ও নিউরোকেমিক্যাল পরিবর্তনের কারণে হয়।
🔹 মাইগ্রেনের প্রধান লক্ষণ
১. মাথাব্যথার ধরন
সাধারণত মাথার এক পাশে (unilateral), তবে দুই পাশেও হতে পারে
ধকধক বা pulsating টাইপ ব্যথা
মাঝারি থেকে তীব্র (moderate to severe)
৪–৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে
২. সাথে যে উপসর্গগুলো থাকে
বমি বমি ভাব বা বমি
আলো সহ্য না হওয়া (photophobia)
শব্দ সহ্য না হওয়া (phonophobia)
গন্ধে অস্বস্তি
৩. Aura (কিছু রোগীর ক্ষেত্রে)
মাথাব্যথার আগে বা সাথে হতে পারে—
চোখে ঝাপসা দেখা / ঝিলমিল আলো (flashing lights)
জিগজ্যাগ লাইন দেখা
শরীরের একপাশ অবশ বা ঝিনঝিন
৪. Trigger (যা ব্যথা বাড়ায়)
ঘুম কম বা বেশি হওয়া
মানসিক চাপ
নির্দিষ্ট খাবার (চকলেট, চিজ, কফি বেশি)
হরমোনাল পরিবর্তন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)
রোদ বা তীব্র আলো
🔹 মাইগ্রেন রোগীর করণীয় (Lifestyle নিয়ম)
মাইগ্রেন পুরোপুরি সারানো না গেলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব—এটাই মূল লক্ষ্য।
১. ঘুমের নিয়ম ঠিক রাখা
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও ওঠা
৬–৮ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা
২. Trigger এড়ানো
কোন খাবার বা পরিস্থিতিতে ব্যথা বাড়ে তা খেয়াল রাখা
“Headache diary” রাখা খুব কাজে দেয়
৩. নিয়মিত খাবার খাওয়া
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা যাবে না
পানি বেশি পান করা
৪. স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট
মেডিটেশন, রিলাক্সেশন
হালকা ব্যায়াম (যেমন হাঁটা)
৫. স্ক্রিন ও আলো নিয়ন্ত্রণ
মোবাইল/কম্পিউটার কম ব্যবহার
সানগ্লাস ব্যবহার করা (রোদে)
৬. ওষুধ (ডাক্তারের পরামর্শে)
Acute attack এ: NSAIDs, Triptans
Preventive therapy: Beta-blocker, Topiramate ইত্যাদি
🔹 কখন সতর্ক হবেন?
এইগুলো থাকলে অন্য কারণ খুঁজতে হবে—
প্রথমবার খুব তীব্র মাথাব্যথা
হঠাৎ pattern পরিবর্তন
জ্বর, খিঁচুনি বা neurologic deficit
বয়স >৫০ এ নতুন headache
ডা:আমিনুর রহমান। ব্রেইন, স্পাইন এন্ড ট্রমা স্পেশালিষ্ট নিউরোসার্জন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।